অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে এক মিনিট নীরবতা পালনসহ তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। বার্ষিক পঞ্জিকা অনুযায়ী ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ কেএফটি ডে (বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ) অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অনুষ্ঠানটি জুলাই বিপ্লব ২০২৪ ও দেশাত্মবোধক চেতনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয়। এতে শিক্ষার্থীরা দেশের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Md. Bazlul Kabir Bhuiyan, Commissioner of Taxes (Retd.) & Motivational Speaker। তিনি তাঁর সেশনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক ও ব্যবহারিক যোগাযোগের মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে পুরো সেশনটিকে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য করে তোলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কেএফটির চেয়ারম্যান Md. Belayet Hossain. পরে শিক্ষার্থীরা গান, নাচ, নাটক, জারীগান, কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে এ বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখে।
বিকেলের অধিবেশন : দ্বিতীয় পর্ব অতিথি রিসিপশন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। এ সময় পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. নাজমুল আমিন মজুমদার এবং মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব কে এম ইশমাম -কে ফুল ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের বয়েজ ও গার্লস উইং-এর সমন্বয়কগণ। এরপর বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে এ বছরের ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ মেহজাবিন কাদরি-কে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার সানিয়া সাঈদ এবং ২০২৪ সালের স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার কৌশিক ঘোষ মেহজাবিন কাদরিকে ক্রেস্ট তুলে দেন। বয়েজ উইং-এর চ্যাম্পিয়ন হাউজ গোমতী এবং গার্লস উইং-এর চ্যাম্পিয়ন হাউজ তিতাস-কে ট্রফি প্রদান করা হয়। যথারীতি দ্বিতীয় পর্বেও দেশপ্রেম ও দেশাত্মবোধক চেতনায় ভরপুর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এ সময় লন্ডন, যুক্তরাজ্য থেকে আগত মিডিয়া পার্সোনালিটি সেলিম মোহাম্মদ তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও লন্ডনের শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনা তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ অতিথি ড. নাজমুল আমিন মজুমদার তাঁর বক্তব্যে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সবশেষে প্রতিষ্ঠাতা জনাব বেলায়েত হোসেন জুলহাস স্কুলের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের সমাপ্তি ঘটে।